October 24, 2021

আইটিসি লিমিটেডের নিমাইল ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক অ্যাকশন ফ্লোর ক্লিনার যা নিমের উৎকৃষ্ট গুণাবলী সমৃদ্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি –

নিম একটি সর্বশক্তিমান উদ্ভিদ এবং এটি প্রকৃতির একটি পবিত্র উপহার। এটি একটি অতুলনীয় উদ্ভিদ যাকে জাতিসংঘ কর্তৃক ‘একবিংশ শতাব্দীর উদ্ভিদ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, যেমন বেদ, উপনিষদ ইত্যাদিতে, নিমকে ‘সর্ব রোগ নিবারিণী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হল, এটি সমস্ত রোগ নিরাময়ের ওষুধ। নিম ব্যাপকভাবে আয়ুর্বেদ, ইউনানি এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধে ব্যবহৃত হয়েছে।নিমের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী কীটনাশক ও ঔষধি গুণাবলী। আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই ঐশ্বরিক উদ্ভিদ থেকে থেকে তৈরি কীটনাশক সিন্থেটিক কীটনাশকের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ, এর নন-টক্সিক বৈশিষ্ট্য প্রাণিকুল ও মানুষের জন্য নিরাপদ। এই অলৌকিক গাছের পাতাগুলি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত বলে পরিচিত।

আইটিসি লিমিটেডের নিমাইল ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক অ্যাকশন ফ্লোর ক্লিনার যা নিমের উৎকৃষ্ট গুণাবলী সমৃদ্ধ। মেঝে আমাদের বাড়ির সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং দৃশ্যমান অংশ; এটি নোংরা হয়ে যায়, জীবাণুকে আকর্ষণ করে ও ওই সমস্ত জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই জীবাণু দূর করার জন্য প্রতিটি বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। বেশিরভাগ ফ্লোর ক্লিনার ক্লোরিন ভিত্তিক এবং সেগুলি`র সাহায্যে পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতা পাওয়া ও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাসায়নিকের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। এর পাশাপাশি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে আসা নিমাইল হল একটি ক্লোরিন-মুক্ত পণ্য যা জীবাণুগুলিকে কার্যকরভাবে হত্যা করতে এবং মেঝে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি একটি পরিবেশ-বান্ধব পণ্য, তাই এর থেকে গুণমান, কার্যক্ষমতা এবং সুরক্ষা প্রত্যাশিত মাত্রায় পাওয়া যায়। এই সমস্ত বিষয়গুলি`র সামঞ্জস্য করেই এটি তৈরি করা হয়েছে। নিমাইল রেঞ্জের প্রোডাক্ট বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলি সম্পূর্ণরূপে ক্লোরিন ভিত্তিক সক্রিয় সিস্টেমগুলি থেকে মুক্ত। এর ফলে এই প্রোডাক্ট  শিশুদের ও বাচ্চাদের, উভয়ের জন্য নিরাপদ। নিমাইল কেবলমাত্র নিমের গুণাবলীর প্রতিশ্রুতিই রাখে না বরং এটি এই উদ্ভিদের প্রাকৃতিক পরিছন্নতার  বৈশিষ্ট্যগুলির সাক্ষ্য হিসাবেই অবস্থান করছে।

ডাঃ নন্দকিশোর দুক্কিপতি, নিমের প্রতি বিশেষ আগ্রহ নিয়ে বলেন, “নিম একটি ব্যাথা নাশক হিসেবে কাজ করে- নিমের ছাল ভারতে বহু শতাব্দী ধরে ব্যথা নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, এটি জ্বর নিরাময়েও সাহায্য করে। আয়ুর্বেদিক ঔষধ ব্যবস্থায়, নিম ম্যালেরিয়া জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যা বর্ষাকালের একটি সাধারণ ঘটনা। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে নিমের উপাদানগুলির মধ্যে একটি হল, গেডুনিন যা ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কুইনিনের মতো কার্যকর। নিমের ডালগুলি সাধারণ সর্দি এবং কাশি, হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিস এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। নিমের অ্যান্টিহিস্টামিন বৈশিষ্ট্যও রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করা হলে বা ডিকোশন হিসেবে খাওয়া হলে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।“

ত্বকের যত্ন- বর্ষাকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে প্রায়শই ব্রেকআউট এবং ত্বকের অন্যান্য সমস্যা`র সৃষ্টি হয়। ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী এই ধরণের অবস্থার ক্ষেত্রে নিমের প্রায় জাদুকরী কার্যকারিতা রয়েছে যা প্রায়শই প্রথাগত চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যায় না। ব্রণ, সোরাইসিস, একজিমা, চুলকানি, রোসেসিয়া, শিংলস, দাদ, এথলিট`স ফুট, হারপিস, ছত্রাকের সংক্রমণ, ঠান্ডা ঘা, শুষ্ক ত্বক, অর্শ, ফুসকুড়ি, ত্বকের আলসার, বাত, মচকানো, ব্যথা, ক্ষত, বলিরেখা পরিষ্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটি জৈব রাসায়নিক-মুক্ত, শূন্য ক্ষতিকারক নিম প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হয়।

চুলের যত্ন- যখন উচ্চমানের, ওয়াইল্ড-ক্র্যাফটেড নিমের নির্যাস এবং কিছু ক্ষেত্রে জলপাই আকৃতির ফলের কার্নেল থেকে ঠান্ডা চাপা নিমের তেল যুক্ত করে স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য রক্ষার প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়, তখন এটি অনেক সুবিধা প্রদান করে। খুশকি এবং সোরাইসিস, স্কেলিং এমনকি চুল পড়া সহ মাথার ত্বকের যাবতীয় সমস্যায় নিম শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, ক্রিম, টিংচার এবং ক্যাপসুলের সাহায্যে দারুণভাবে সাড়া পাওয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত চুলের জন্য এই সবচেয়ে আশ্চর্যজনক উদ্ভিদটির সাহায্য নিয়ে নিয়মিতভাবে চিকিত্সা করা হলে সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত চুল ‘জীবন্ত হয়ে ওঠে’।

গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইন সমস্যা- নিম পেটের আলসারের চিকিৎসায় সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিহিস্টামিন এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানগুলি প্রদাহ কমাতে এবং সাধারণ পেটের রোগের জন্য দায়ি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এর রাসায়নিক সমকক্ষের মত, নিম অন্ত্রের মধ্যে থাকা উপকারী ফ্লোরাকে ধ্বংস করে না বা কোনও নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না।

হোম কেয়ার- নিম, তার ব্যাকটেরিয়া নাশক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত, এটি ক্ষতিকারক ছত্রাক, পরজীবী এবং ভাইরাস ধ্বংস করার জন্যও যে কার্যকরি, সেটা পরীক্ষাগারে কঠোরভাবে পরীক্ষায় সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে। নিমাইল-এর মতো প্রোডাক্ট, যা নিমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলি মেঝে ও পৃষ্ঠতল থেকে কোভিড -১৯ করোনাভাইরাসকে পরিষ্কার করার দাবি রাখে। কিছু লোক শুকনো নিম পাতাও ওয়ার্ড্রোবে সংরক্ষণ করে কারণ, এটি পোকা এবং ব্যাকটেরিয়াকে কাপড়-জামা নষ্ট করতে বাধা দেয়।

প্ৰকৃত অর্থেই, নিম হল বাড়ির পিছনের দিকে থাকা একটি ফার্মেসি যাকে আমাদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। যাইহোক, আপনার খাদ্য বা ত্বকের ক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা নেবার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

Total Page Visits: 143 - Today Page Visits: 1