April 23, 2021

ওভালে নীলসমুদ্রের ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ক্যাঙ্গারু বাহিনী

লন্ডন –

শেষ মূহুর্তে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। গোটা ইনিংস দুর্দান্ত বল করে আসার পর তখন যেন কিছুটা চিন্তার ভাঁজ বিরাট এবং তাঁর বোলারদের। কিন্তু শেষ ভালো যার সব ভালোর মতোই ব্যাগি গ্রিনদের হারাল বিরাটবাহিনী। এক স্মরণীয় এবং জমাটি ম্যাচের সাক্ষী থাকল রবিবাসরীয় ওভাল। আগামী ৫০ ওভার ঠিক কী রকম হতে চলেছে ব্যাটিংয়ের জন্য। টসে হেরে বোলিং করতে নেমেও অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা খুব খারাপ শুরু করেননি। মিচেল স্টার্ক আর প্যাট কামিন্সের পেস জুটির সামনে প্রথমে কিছুটা সিঁটিয়ে ছিলেন শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। একাদশ ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের স্পিন শুরু হতেই ভারতের রানের গতি এক্কেবারে আকাশ ছুঁয়ে ফেলল।
সচিন-সৌরভ জুটির একটা অলিখিত ব্যাপার ছিল, যে দিন সৌরভ চালাবেন সে দিন ধরে খেলবেন সচিন আর যে দিন সচিন চালাবেন সে দিন হবে উলটোটা। রোহিত-ধাওয়ান জুটির ক্ষেত্রেও এই ব্যাপারটাই হচ্ছে। ধাওয়ান আগ্রাসী ঢঙে শুরু করেন বলে ম্রিয়মাণ ছিলেন রোহিত। একটা পরিসংখ্যান বলছে, ওভালের মাঠ ধাওয়ানের কাছে খুব পয়া। রবিবারের ম্যাচের আগে এখানে খান তিনেক ম্যাচে দু’টি শতরান করেছেন তিনি। সেই তালিকায় এ দিন আরও একটা সংযোজন হল গত কয়েক মাস ধরেই রানের মধ্যে ছিলেন না ধাওয়ান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও রান আসেনি, প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে আরও একটা ব্যর্থতা মানে চাপ তৈরি হত তাঁর ওপরে। কিন্তু সেই চাপকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য নিজের পয়া মাঠকেই বেছে নিলেন তিনি। নতুনত্ব কোনো ব্যাপার ছিল না তাঁর ইনিংসে। চিরাচরিত যেমন খেলেন, তেমনই খেলে গেলেন। তবে তাঁর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, সেটা হল শতরানের পরে, বেশি দূরে আর যেতে পারেন না তিনি। এ দিনও সে রকমই হল। ১২০-এর আগেই থেমে গেল তাঁর ইনিংস।
গিয়েছে। অন্য দিকে বিরাট তখন ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছেন। বিরাট যেন কিছুটা চরিত্রবিরোধী ইনিংস খেলেছেন। তাই যখন দেখা যায় মাত্র ১০৬-এর স্ট্রাইক রেটে ৮২ রান করেছেন তিনি, তখন বুঝতে হয় রবিবার তাঁর দিন ছিল না। তবে ভারতকে সাড়ে তিনশো পার করিয়ে দেওয়ার জন্য ধোনির অবদানও কম কিছু নয়। শেষ দিকে ও রকম মারমার কাটকাট না করলে ৩৩০-এই আটকে যেতে পারত ভারত। শক্তিশালী দলের কাছে সাড়ে তিনশো রান তাড়া করাটা এখন আর খুব সাংঘাতিক কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু হল ঠিক উলটো। ডেভিড ওয়ার্নার প্রায় পঁচিশ ওভার ক্রিজে থেকেও এই রান তাড়া করার জন্য কোনো বাড়তি উদ্যোগই দেখাতে পারলেন না। ক্রিজে পুরোপুরি আটকে গিয়েছিলেন ওয়ার্নার। তিন চারটে ডট বল খেলার পর খুচরো রান তুলছিলেন। তাই অর্ধশতরান করার পরেও বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ওয়ার্নারের। একই ব্যাপার স্মিথের ক্ষেত্রেও। বুমরাহ-ভুবনেশ্বরের পেস আর ‘কুলচা’ জুটির বিরুদ্ধে রান তুলতে কালঘাম ছুটে যায় অজিদের। শেষে ৩৫ ওভারের পর থেকে রান তোলার উদ্যোগ দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। কিন্তু ততক্ষণে আস্কিং রেট আকাশ ছুঁয়েছে। ম্যাক্সওয়েল ক্রিজে এসেই যে মুডে ব্যাট করতে শুরু করলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল একটা চাল খেলতে ভুল করেছে অস্ট্রেলিয়া। কিছুটা চিন্তায় রাখবে। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে সেগুলো শুধরে নেওয়া প্রয়োজন।

Total Page Visits: 621 - Today Page Visits: 1