March 7, 2021

দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এর দত্তবাড়ির দুর্গা পুজোর কিছু অজানা কথা

দত্ত বাড়ির সদস্যরা –

খুব একটা প্রাচীন পূজো এটি নয় আগে বাংলাদেশ এ এই পূজো হত কিন্তু বহুবছর এই পূজো বন্ধ হয়ে যায় । এই পুজোর প্রচুর কাহিনী আছে । দত্ত বাড়ির সব থেকে ছোট পুত্র শ্রীমান সৌহার্দ্য দত্ত ওর উদ্যোগেই এই পূজো আবার প্রাণ ফিরে পায় । ছোটবেলায় খেলার ছলে ছোট মূর্তি বানিয়ে পূজো করতে করতে তা আজ এত বড় আকার ধারণ করে । প্রথমত রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজোর মাধ্যমে শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজার শুভ সূচনা হয় এবং তার পর জন্মাষ্টমী -র দিন দেবী মূর্তির গায়ে প্রথম মাটির প্রলেপ পরে । আগে বাড়িতেই প্রতিমা নির্মাণ করা হত এবং বাড়ির ছোট ছেলে যে পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা সৌহার্দ্য ও নিজে ই প্রতিমা নির্মাণ করত , কিন্তু বর্তমানে জায়গার অভবে ও বিভিন্ন অসুবিধার কারণে তা বাড়িতে করা আর সম্ভব হয় না । আমাদের আগে দেশের বাড়িতে যা নিয়ম মানা হত তা প্রায় সব ই মানা হয় কোন পরিবর্তন করা হয় নি , শুধু আগে পশু বলি হত এখন ফল বলি হয় ।আমাদের প্রতিপদ থেকে কল্পারম্ভ র পূজো শুরু হয় এবং নিত্য অন্ন ভোগ ও হয় । প্রতিপদ থেকেই নিত্য ২ প্রকার চন্ডী পাঠ হয় । তিথি ভিত্তি তে দেবীকে ভোগ , ভাজা , তরকারি ও মিষ্টি নিবেদন করা হয় , যেমন :- সপ্তমী তে ৭ রকমের ভাজা + ৭ রকমের তরকারি + ৭রকমের মিষ্টি ইত্যাদি , অষ্টামী যে ৮ রকমের নবমী তে ৯ রকমের , দশমী তে ১০ রকমের সব জিনিস দিয়ে এছাড়া মহাষ্টমী ও মহানবমী র দিন দেবী র মহা ভোগ বা রাজ ভোগ হয় । প্রতিদিন দেবীর আলাদা আলাদা রকমের ভোগ হয় এবং তিনবেলা ই ভোগ নিবেদন করা হয় । প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাম কীর্তন এর আসর বসে , আগে দেশেরবাড়িতে যাত্রা পালার আসর বসত কিন্তু এখন সেটি আর হয় না । দেবীর দুই পাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতী র মূর্তি থাকে ঠিক ই কিন্তু তাদের জয়া ও বিজয়া রূপে পূজো করা হয়। আমাদের দেবী মূর্তি প্রতিবছর টানা চোখের মুখ হয় কিন্তু প্রতিবছর সাজ পরিবর্তন করা হয় । প্রতিদিন ফল বলি হয় । সপ্তমীর রাত তিথি অনুযায়ী মহাষ্টমীর রাত এ অর্ধরাত্র বিহিত পূজা হয় , এটি অনেকটা সন্ধিপূজোর মতন এই পূজো টি করেন দক্ষিনেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ অদ্যাপীঠ এর

মহারাজ । এটি সব জায়গায় তেমন দেখা যায় না , খুব অল্প জায়গায় পূজটি হয় । আমাদের বাড়ির ছোট ছেলেই প্রতিদিন এর পূজো করে । আমাদের জাত পাত এর কোনো ভেদাভেদ নেই সকলের সমান অধিকার থাকে এই পুজোতে । খওয়ার সময় ও সকলে এক আসনে বসে মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন , কনো জাতির ভেদাভেদ করা হয় না । সন্ধিপূজোর সময় দেবীকে সহস্র প্রদীপ ও নৈবেদ্য নিবেদন করা হয় , যেটি অন্যান্য জায়গায় তেমন দেখতে পাওয়া যায় না । আমাদের আরতির খুব দেখার মতন , কথিত আরতির সময় যদি দেবীর চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের মনশকামনা জানায় তাহলে সেটি পূরণ হয় । দশমীর দিন দেবী মূর্তির বিসর্জন হয় না । দশমীর দিন দেবীকে ভোগ এ শীতল পান্তা , কচুর সাগ , ডালের বড়া , ১০ রকমের ভাজা দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয় । দশমীর দিন দেবীকে মাছ , পিঠা ও ঘি এর প্রদীপ দিয়ে দেবীকে যাত্রা করানো হয় । প্রতিমা বিসর্জন এর সময় কনকাঞ্জলি হয় । আমাদের দেবীকে কুমারী রূপে পূজো করা হয় । এ ছাড়া মহানবমী র দিন আলাদা করে কুমারী পুজোর ব্যাবস্থা থাকে । ৬ বছরের একটি মেয়ে কে সাজিয়ে কমারীর আসনে বসিয়ে কুমারিপূজা করা হয় , আগে ৯ জন কন্যাকে কুমারী পূজা করা হত কিন্তু এখন তা আর হয় না এখন একজন কেই পূজো করা হয় । নিত্য ( প্রতিপদ থেকে দশমী পর্যন্ত) দেবীকে নতুন বেনারসী কাপড় পড়ানো হয় এবং তার সঙ্গে থাকে গয়না । তবে পুজোর প্রতিদিন আগে বাড়ির কুল দেবী (জগৎজননী আদ্যা মা) পূজো হবে তার পর দেবীর পূজো শুরু হবে এবং ভোগের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম । দশমীর দিন ৫টা ঢাক ও ধুনোচি নাচের তালে দেবীকে নিরঞ্জন করা হয় । আবার ৩দিন পর ওই কাঠামো নিয়ে আসা হয় । পুজোর কয়েক দিন বাড়ির সবাই একজায়গায় মিলিত হয় যারা বাইরে থাকেন তারাও আসেন এই পূজো তে। আবার একটি বছরের অপেক্ষা ।।
{দত্ত বাড়ির সদস্যবৃন্ত}
{১}৺নারায়ণ দত্ত (বাড়ির বড় সন্তান)

৺সরস্বতী দত্ত(স্ত্রী)

{i}সুব্রত কুমার দত্ত (বড় পুত্র)

শিউলি দত্ত (স্ত্রী)

সুদেষ্ণা দত্ত ঘোষ (বড় কন্যা)

সায়ন ঘোষ (বড় জামাতা)

সুস্মিতা দত্ত সিং (ছোট কন্যা)

অঙ্কিত সিং(ছোট জামাতা)
{ii} সুজয় কুমার দত্ত ( ছোট পুত্র )

অঞ্জনা দত্ত(স্ত্রী)

সৌহার্দ্য দত্ত(পুত্র)

{২}বিনয় ভূষণ দত্ত (বাড়ির মেজো সন্তান)

শ্যামলী দত্ত(স্ত্রী)

শতাব্দী দত্ত ধড় (কন্যা)

তৃষিত ধড়(জামাতা)
{৩}মনি দত্ত (বাড়ির ছোট সন্তান)

Total Page Visits: 510 - Today Page Visits: 1