October 21, 2021

ময়দানের দাদা তুমি-রনি দা

সপ্তর্ষি সিংহঃ

তোমার মতো বন্ধু আর কে আছে ………….সাংবাদিকতা শুরুর সময় আজকাল পত্রিকার ক্রীড়া বিভাগে ছবি ক্যাপশানে একটি নাম দেখতাম চিত্র সাংবাদিক ‘রনি রায়’। মাঠের জগতে পা রাখার পর থেকে আমার সহকর্মী কিংবা প্রবীন সাংবাদিকদের কাছে শুনতাম এই নামটি। সেই সময় থেকে আমার সুপ্ত বাসনা ছিল এই স্বনামধন্য মহান মানুষটির সঙ্গে পরিচয় ঘটার। আইলিগ ২০১৭-১৮ চলাকালীন ম্যাচ কভারেজ দিয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। একদিন একটি ম্যাচে ছবি প্রয়োজন হওয়ায় আমার পরিচিত এক প্রবীন সাংবাদিক

বলেছিলেন, “রনির কাছে ছবি চেয়ে নে”। এখনও সেই দিনটার কথা মনে পড়ে, সেদিন আমি সুযোগটা পেয়ে বেশ বিস্মিত হয়েছিলাম। ফোনে পাহাড় প্রমান মানুষটির সঙ্গে সেদিন আমার প্রথম পরিচয় ঘটেছিল। সেদিন আমার মতো শিক্ষানবিশ সাংবাদিকের সঙ্গে যে ভাষায় তিনি কথা বলেছিলেন তাতে এটুকু উপলব্ধি হয়েছিল প্রনম্য মানুষেরা অহংকারী নন। এরপর সময় যত এগিয়েছে চিত্র সাংবাদিক রনি রায়ের সঙ্গে ধীরে ধরে সক্ষতা বেড়ে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক নিবিড় হয়েছে।

রেফারি ক্যান্টিনে বসে মানুষটা কে খুব কাছ থেকে চেনার সুযোগ হয়েছিল স্বল্প সময়ে। দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, ভরসা দিচ্ছেন আবার শিখেয়েছেন। পথচলতে যেটুকু প্রাপ্তি হয়েছে তার মধ্যে পিতৃসম মৃতুঞ্জয় রায় ও সোমনাথ সাহার নাম উচ্চারণ না করলে নিজেকে অপরাধী বোধ হবে।

ওয়েব প্ল্যাটফর্ম নিউজ বেঙ্গল অনলাইনের সম্পাদক সোমনাথ সাহা আমার ক্রীড়াভিত্তিক লেখনী প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিলেন। রনিদা’র এত কাছের হতে পেরেছি শুধুমাত্র মৃতুঞ্জয় রায়ের জন্য। মাঠের পরিচিত ছাড়া মৃতুঞ্জয় রায় রনি দা’র সঙ্গে আমাকে ব্যাক্তিগত সম্পর্কের জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলেন। প্রবীন এই চিত্র সাংবাদিক আমার কাছে হয়ে উঠেছিলেন আমার গাইডলাইন। শুধু মাঠের নয়, ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন আমার পথপ্রদর্শক। একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, যে কোনও সমস্যায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবি- এমন বরাভয় আর কার কাছে বা পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে যে কোনও সময়ে যে কোনও সমস্যায় সেটা ব্যাক্তিগত হোক কিংবা কাজের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি দ্বারস্হ হয়েছি এঁদের কাছে। আর সেই জন্য এই দুটি মানুষের কাছে পিতৃসম

আচরণ পেয়ছি। ২৪ এপ্রিল বিকেল ৫টি নাগাদ হঠাৎ ৫৭ বছরের প্রবীন চিত্র সাংবাদিকের অকাল প্রয়ানের খবর পেলাম তখন পুরোন স্মৃতিগুলি চোখের সামনে ভিড় করল। লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে ছুটে যেতে না পেরে তাঁকে প্রনাম ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কিছু কথা তুলে ধরতে চেষ্টা করলাম। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সোমানথ দা’র সঙ্গে এই বিষয়ে ফোনে কথা বলার সময় সোমনাথ দা বলল আমাদের স্মৃতি মধুর সেই দিনগুলির কথা তোর লেখনীতে প্রকাশ কর। কিন্তু কথা গুলো লিখতে বসে চোখের জল বাঁধ মানছিল না। তাঁর সম্পর্কে কথা বলার স্পর্ধা আমার নেই কিন্তু তাঁর বলা কথা গুলো আমার কানে এখনও বাজে। দেখা হলেই লজেন্স দেওয়া, কেমন আছি জানতে চাওয়া কিংবা সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়ার নাম যেন রনি দা। সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে রনি দা

যেভাবে আমার মতো ক্ষুদে সাংবাদিক কে সাহায্য করেছে তা কখনও ভূলতে পারব না। লকডাউনের কিছু আগে তাঁর সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল। “বলেছিলাম তুমি এত ব্যস্ত থাকো তোমাকে ফোন করতে দ্বিধা বোধ হয় কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে এসেছিল যখন ইচ্ছা ফোন করবি। ভালো থেকো রনি দা। আজ খুব মনে পড়ছে তোমার বলা সেই কথা গুলো আড়াল থেকে শক্তি দিও এগিয়ে চলার।
(স্মৃতির স্মরণীতে রনি’দার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য)

ছবি – রনি দার ( ফেসবুক )

Total Page Visits: 594 - Today Page Visits: 1