November 29, 2022

আই পি আর এসের উদ্যোগে লার্ন অ্যান্ড আর্ন প্রচার ও নলেজ ওয়ার্কশপ

শ্রীজিৎ চট্টরাজ – কলকাতা

১৯৬৯ মুম্বাই ফিল্ম দুনিয়া সহ দেশের সর্বত্র সিনেমা বা নিজস্ব গানে একমাত্র সঙ্গীত পরিচালকেরাই কপি রাইট আইনের সুবাদে রয়েলটি বা সত্ত্ব বাবদ লভ্যাংশ পেতেন। ১৯৫২ সালের দুর্বল কপি রাইট অ্যাক্ট প্রযোজ্য থাকলেও ছিল না গীতিকার বা গায়ক গায়িকার কপি রাইট স্বীকৃতি। এই নিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর।সমর্থন করেন কিশোরকুমার। কিন্তু ভিন্ন মত পোষণ করেছিলেন মোহাম্মদ রফি। তাঁর যুক্তি ছিল, গানের কথা, গায়ক গায়িকার প্রাপ্য অর্থ প্রযোজকরা দেন।ফলে সি সৃষ্টির অধিকার প্রযোজকের বর্তায়। লতাজি দ্বিমত পোষণ করেন। সাময়িক ভাবে দুই কিংবদন্তি শিল্পীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।বহুদিন দুজনে একসঙ্গে গান গাননি। এরপর কপিরাইট আইন সংশোধন হয় দুবার।১৯৬৯ সালে এবং ২০১২ সালে।নতুন করে গীতিকার,সুরকার, ও গায়ক গায়িকাদের স্বার্থরক্ষার স্বীকৃতি মেলে। ১৯৬৯ সালেই গড়ে ওঠে শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় সংগঠন ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি লিমিটেড। ১৯৬৯ এ গঠিত এই সংগঠন সুরকার,গীতিকার, পাবলিশার্স ও শিল্পীদের স্বত্বরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে চলেছে। মূলত সম্যস্যার অন্যতম কারণ, সঙ্গীত জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিজের স্বত্ব ও সুযোগ সম্পর্কে ধারণার অভাব। সাম্প্রতিক করোনা প্রবাহে সংগঠন যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নেয়। এই মুহূর্তে সারা ভারত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আঞ্চলিক স্তরে ওয়ার্কশপ হচ্ছে। চেন্নাই ও হায়দ্রাবাদের পর মধ্য কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে দিনভর ওয়ার্কশপ যেমন হলো, তেমন সাংবাদিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শতরূপা সান্যাল, উপালিকা চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি বসু , দেবজিত রায়, গায়ক রাজ কল্যাণ রায় এবং আইনি সহায়ক সৈয়দ আহমেদ, অডিও রেকর্ড কোম্পানির কর্ণধার প্রেম গুপ্তা প্রমুখ।

বক্তারা প্রত্যেকেই সঙ্গীত জগতের শিল্পী,সংগীত পরিচালক ও গীতিকারদের শৈল্পিক সত্ত্বার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করার জন্য সংগঠনের ভুয়সী প্রশংসা করেন। মুম্বাই থেকে এসেছিলেন,বহু হিট ছবির সহকারীপরিচালক,
চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ময়ূর পুরী । তিনি বলেন, আমাদের দূরদর্শী চেয়ারপারসন জাভেদ আখতার বলেছেন, আই পি আর এস আমাদের জন্য। আমাদের বৈচিত্র্যময়তা ও সার্বিক সিদ্বান্ত গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করে। আমাদের সদস্যদের শিল্পীসুলভ সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার প্রদান নিশ্চিত করছে এই সংস্থা। সংস্থার সি ই ও রাকেশ নিগম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ভারতীয় সংগীত তাঁর সক্রিয়তায় সমৃদ্ধ দেশের সেরা সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক ,

গায়িকার ধাত্রীগৃহ পশ্চিমবাংলা। মানুষ বিয়ে বা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গান ব্যবহার করেন। কিন্তু ন্যূনতম লাইসেন্স ফি দিয়ে শিল্পীর স্বীকৃতি দেন না। এই মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য মিডিয়ার সাহায্য দরকার। নিগম আরও বলেন ২০২১/২২ অর্থবর্ষ আই পিআর এসের রোজগারের ইতিহাসে আয় বৃদ্ধির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৫শতাংশ।২০/২১ অর্থবর্ষের ১৬৯.৮ কোটি থেকে ৩১০ কোটির বেশি আয় হয়েছে কপিরাইট থেকে আদায়কৃত রাশি থেকে। যা ঐতিহাসিক। সংগঠন আর্থিকভাবে দুর্বল সদস্যদের জন্য একটি রিলিফ ফান্ড গঠন করেছে।সেখানে নিয়োজিত হয়েছে ৬.২কোটি টাকা। যা বন্টিত হয়েছে ২১/২২আর্থিক বর্ষে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থ সংগীত শিল্পী ও গীতিকারদের। এই মুহূর্তে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার। সাংবাদিকদের আমন্ত্রণপত্রে ও প্রেস নোটে শিল্পী অনুপম রায়, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় , জয় সরকার ও সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতির কথা উল্লেখ থাকলেও সংগঠনের অনুষ্ঠানে সময়ের অভাবে সম্ভবত তাঁরা আসতে পারেননি। বিভিন্ন ক্লাব হোটেল, ও কর্পোরেট সংস্থা যেমন শিল্পীর অধিকারের স্বত্ব মূল্য না দিয়ে বঞ্চিত করার অভিযোগের শিকার হচ্ছে, তেমন এই শিল্পীর অধিকার রক্ষার সংগঠনের বিরূদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন কিছু শিল্পী। মূলত তাঁরা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। ২০২০ সালে এঁদের অভিযোগ ছিল, ২০০১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীতের কপি রাইট শেষ হয়েছে। তাই ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিশ্বভারতী আর কপি রাইট দাবি না জানালেও ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের কপি রাইট দাবি করছে বেআইনিভাবে । এই নিয়ে ধন্দে পড়ে শিশু তীর্থের প্রিন্সিপাল ও খোদ ঠাকুরবাড়ির পরিবারের সদস্য সুদৃপ্ত ঠাকুর সংস্থার চেয়ারম্যানকে ই মেইল করেছিলেন। তিনি সাহানা বাজপেয়ীর গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত মহারাজ একি সাজে গানের সঙ্গে এসরাজ বাজান। সেই অনুষ্ঠান ইউটিউবে পোস্ট করলে গানের কপিরাইট চেয়ে বসে আই পি আর এস সংস্থা। ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বহু শিল্পী একই অভিযোগ করে। আইনের ফাঁক দিয়ে শিল্পীরা সংস্থার দাবি থেকে নিজেদের মুক্ত করলেও ভবিষ্যতে একটি সমস্যা থেকে গেল বলেই মনে করেন ঠাকুর পরিবারের সদস্য। সম্প্রতি গুগলের সঙ্গে সংগঠনের একটি চুক্তি অনুযায়ী শিল্পীদের কপি রাইট বাবদ আর্থিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ মিলেছে।

হোটেলের করিডোরে সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলার সংগীত পরিচালক ও গীতিকার সদস্যদের নামের একটি তালিকা প্রকাশিত হয় সেখানে দুই প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক জুটি ও গায়ক কার্তিক কুমার , বসন্ত কুমারের নাম দেখা গেল। যা বিস্ময়ের সৃষ্টি করলো। সংগঠনের সদস্য তালিকায় মৃত সদস্যদের নাম থাকাটা কি সঙ্গত? এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

About Post Author

Total Page Visits: 55 - Today Page Visits: 1