November 28, 2022

ডাঃ বি সি রায় ইনস্টিটিউটের নব রূপায়নে পুনরুজ্জীবিত শহরের স্থাপত্যকীর্তির গৌরবগাথা

নিজস্ব প্রতিনিধি –

পূর্ব রেলওয়ের উদ্যোগে শিয়ালদহে ডক্টর বি সি রায় ইনস্টিটিউট যেটি আগে দ্য ক্লেম ব্রাউন ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত ছিল সেটির সংস্কারসাধনের মাধ্যমে কলকাতার অতীত স্থাপত্যরীতির গৌরব ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। লাল ইটের মনোরম বিল্ডিংটির বাহ্যিক অংশ অপরিবর্তিত রেখে, নান্দনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ সজ্জা। যার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে ইতালীয় নবজাগরণের বিশিষ্ট শিল্পভাবনা যা দেখা যায় রোমের গম্বুজ এবং ব্যাসিলিকাগুলিতে। অন্দরের নকশা, সম্মুখভাগ, ছাদের কারুকাজ সহ ফ্যাসিয়াস নির্মাণের দায়িত্বে ছিল কলকাতা-ভিত্তিক আর্ট ও ডিজাইনিং এবং ফ্যাব্রিকেশন ফার্ম লোকনাথ ইঞ্জিনিয়ারিং।

“ইনস্টিটিউটটি এখন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ইস্টার্ন রেলওয়ে ইতিমধ্যেই সদ্য সংস্কার হওয়া ইনস্টিটিউটে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক ও অফিসিয়াল ইভেন্ট এমনকি সেমিনার আয়োজন করেছে যেমন, ৬৫ এবং ৬৬ তম রেলওয়ে উইক জেনারেল ম্যানেজার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান, জোনাল রেলওয়ে সপ্তাহ, এসপিএডি সেমিনার সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠানও ইতিমধ্যে বি সি রায় ইনস্টিটিউটে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করেছে” জানান পূর্ব রেলওয়ের শিয়ালদহ শাখার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং।

“প্রাক-স্বাধীন ভারতে, ক্লেম ব্রাউন ইনস্টিটিউট ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পার্টি, বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতার একটি বিখ্যাত ঠিকানা। বিল্ডিংয়ের অভিনব অন্দরসজ্জা   কলকাতার সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনুভূতি ফিরিয়ে এনেছে। ডক্টর বি সি রায় ইনস্টিটিউট অতীত গৌরব ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে নতুনরূপে উপস্থাপিত হয়েছে কলকাতার নাগরিকদের কাছে”, জানান পূর্ব রেলওয়ের শিয়ালদহ শাখার এডিআরএম(আই) সুজিত সঙ্গম প্রিয়দর্শী।

“কোভিড মহামারী এবং লকডাউন সত্ত্বেও ডাঃ বি সি রায় ইনস্টিটিউটের সংস্কারসাধন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। যে সময়ে কোলকাতা তার অতীতের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমক হারিয়ে ফেলছে, সেই সময়ে ডাঃ বি সি রায় ইনস্টিটিউটের নবরূপদান পূর্ব রেলওয়ের একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। কলকাতার প্রাচীন জৌলুসময় নাগরিক জীবনের ছবি প্রতিফলিত হয়েছে ইনস্টিটিউটের শিল্পকর্মের মাধ্যমে” বলেন পূর্ব রেলওয়ের শিয়ালদহ শাখার এডিআরএম(ও)উপেন্দ্র কুমার পান্ডে।

১৯২০ সালে নির্মিত হওয়া ক্লেম ব্রাউন ইনস্টিটিউট ব্রিটিশ, ইহুদী, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সহ উচ্চবিত্ত ভারতীয়দের কাছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্যতম প্রধান ঠিকানাগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। পূর্ব রেলওয়ের অনুমতিক্রমে ডঃ বি সি রায় ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণ সামাজিক ক্রিয়াকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

বি সি রায় ইনস্টিটিউট সংস্কারের ফলে প্রথম তলার গম্বুজটি শৈল্পিক রূপ পেয়েছে যার ছাদটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সাক্ষরবাহী। সমগ্র শৈল্পিক ভাবনার বাস্তব রূপায়ণের নেপথ্যে রয়েছে লোকনাথ ইঞ্জিনিয়ারিং যা গত বছর গান্ধীজির ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী ও কলকাতার ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে মেট্রো রেল ভবনে ১১০ ফুট দীর্ঘ রিলিফ নির্মাণ করে।

বিভিন্ন স্থানীয় কারণ তথা আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং বিল্ডিংয়ের সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক দিকগুলিকে বিবেচনা করে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সাধ্যের মধ্যে রাখতে, সর্বোপরি শিল্পকর্মের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ফাইবারগ্লাস ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন, বলে লোকনাথ ইঞ্জিনিয়ারিং এর পক্ষ থেকে জানান শ্রী সুব্রত গাঙ্গুলি। 

About Post Author

Total Page Visits: 203 - Today Page Visits: 1