August 14, 2022

ডাকঘরের লিংক ফেল ইচ্ছাকৃত ডাক বিভাগের, গ্রাহক ও সঞ্চয় কর্মীদের হয়রানি করার জন্যই

শ্রীজিৎ চট্টরাজ – কলকাতা

স্বল্প সঞ্চয় কর্মী সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল সেভিংস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, বেসরকারী সঞ্চয় প্রকল্পকে সুযোগ করে দিতে কেন্দ্রীয় ডাকঘর স্বল্প সঞ্চয় বিভাগ মাসের অর্ধেক দিন ইচ্ছকৃত ভাবে লিংক ফেল করিয়ে রাখা হয় যাতে গ্রাহক ও স্বল্প সঞ্চয় কর্মীরা ডাকঘরের সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা জমা মা করতে পারেন। শুধু তাই নয়,দেশের আর্থিক বিকাশে আমরা গ্রাহকদের কাছে আস্থাভাজন হয়ে লাখ লাখ টাকা এনে ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পে জমা করি। অথচ আমাদের বহুদিন আগে থেকে যে চার শতাংশ কমিশন ছিল, তা কমিয়ে এখন করা হয়েছে মাত্র ০.৫০ শতাংশ। প্রায় দুডজন দাবি নিয়ে সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন স্বল্প সঞ্চয় কর্মীদের এক সংগঠন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিঞ্চন চ্যাটার্জি জানালেন আমাদের কমিশন যেমন কমিয়ে তলানিতে আনা হয়েছে, তেমন সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, পি প এফ বা সিনিয়র সিটিজেন প্রকল্পগুলিতে আমাদের কমিশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের প্রকল্পে যেখানে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়, সেখানে মান্থলি ইনকাম প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৪.৫ লাখ টাকা জমার সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, এই জমা রাশির পরিমাণ বাড়ানো হোক।

এই ডাকঘরগুলিতে দিনের পর দিন চেকবই মেলে না। কোভিড সময়ে ছাপাখানা বন্ধের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। তাই নাকি দেরি। অথচ চেক ছাড়া টাকা জমা করা যায় না। ঠিক সময়ে টাকা জমা না করতে পারলে উল্টে ১শতাংশ লেট ফাইন আদায় করা হয়। যেটা এজেন্টকে গুনতে হয়।

সংগঠনের নেতৃত্বের ক্ষোভ, কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এনে সঞ্চয়কর্মীর যোগ্য স্বীকৃতি দিচ্ছে না।আমাদের নেই কোনো পরিচয়পত্র। প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রীর দফতর, ডাক বিভাগ, ন্যাশনাল সেভিংস ইনস্টিটিউট সর্বত্র আমরা অভিযোগ জানালেও সবাই চোখ বুঁজে আছে। সারা দেশে পাঁচ লক্ষ কর্মী ও তাঁদের পরিবার পিছু চারজন ধরলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২০ লক্ষ। অথচ আমরা দিনদিন অসহায়

অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। উল্টে কেন্দ্রীয় দফতর বলছে, খরচ কমাতে এজেন্টের সংখ্যা পাঁচ লাখ থেকে দেড়লাখে নিয়ে যাওয়া হবে। অর্থাৎ কর্মী সংকোচন করা হবে বেআইনিভাবে। লক্ষ লক্ষ টাকা আমরা গ্রাহকদের মনে আস্থা তৈরি করে সঞ্চয় প্রকল্পের জন্য নিয়ে আসি, অথচ ডাকঘরে আমাদের বসার কোনো জায়গা নেই। রাজ্য সরকারও আমাদের অসংগঠিত কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ডাকঘর কর্মীরা আমাদের ইতরজনের মত ব্যবহার করে। যে কাজ এজেন্টরা খুব সহজেই করতে পরে সেই কাজের দায়িত্ব আমাদের না দিয়ে সরাসরি ডাকঘরে সঞ্চয়কারী গ্রাহকদের অযথা ডেকে এনে হয়রানি করা হয়। এঁদের অন্যতম দাবি, মানবিক কারণে একটানা কুড়ি বছরের বেশি যে সব এজেন্ট কাজ করেছেন বা করছেন এবং ৬০ বছরের বেশি কর্মরত তাঁদের পেনশন চালু করা হোক ।

সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনোজ কুমার মিশ্র, কেন্দ্রীয় সভাপতি পৃথ্বীশ ভট্টাচার্য ও রাজ্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিঞ্চন চ্যাটার্জি।সংগঠন ১৬ ও ১৭ জুন হাওড়ায় এক মঞ্চে পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, সেখানেই এবার পরবর্তী সিদ্বান্ত নেওয়া হবে আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে।নিজেদের দাবি সনদের স্বীকৃতির ব্যাপারে সংগঠন সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

About Post Author

Total Page Visits: 106 - Today Page Visits: 1