August 14, 2022

নতুন এক ব্র্যান্ডের ধূপকাঠির সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির পরামর্শে বাজারে ব্র্যান্ডেড ধুনো আনল সাইকেল পিওর আগরবাতি

শ্রীজিৎ চট্টরাজ – কলকাতা

সকাল থেকেই মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরি। সন্ধ্যায় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আই পি এলের প্রথম ম্যাচ।তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারতে কলকাতায় এলেন বিশ্বের বৃহত্তম আগরবাতি প্রস্তুতকারক সংস্থা সাইকেল পিওর আগরবাতির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্জুন রঙ্গা।সোমবার দুপুরে মধ্য কোলকাতার অফিস পাড়ার বনেদি পাঁচতারা হোটেলে সংস্থা তাদের নতুন ধূপ কাঠির ব্র্যান্ড পুষ্করিণী আগরবাতি ও ওম শান্তি ধুনোর বিপণনের সূচনা করলো তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ গাঙ্গুলির হাত দিয়ে। সংস্কৃতে আগর শব্দের অর্থ সুগন্ধ। ২০০ খ্রিস্টাব্দে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা প্রথম ভেজষ দিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে বুদ্ধদেবকে শ্রদ্ধা জানাতেন। চিনে জিয়ো, শ্যাং ও চাউ সাম্রাজ্যে ধূপকাঠির প্রচলন জনপ্রিয় হয়।ঐতিহাসিক চরিত্র ক্লিওপেত্রাও নাকি সুগন্ধির ব্যবসা করতেন। ভারতে যখন বাবর শাসক, তাঁর পছন্দের সুগন্ধ যেহেতু গোলাপ,vতাই ইরানের ইস্পাহান ও ইরাকের বসরা থেকে আসত গোলাপ। স্বয়ং জাহাঙ্গীরের ইচ্ছেতেই ঘোড়ার লেজে মাখানো হতো সুগন্ধি। বিশ্বের যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঈশ্বর আরাধনায় ধূপের ব্যবহার হয়ে আসছে। এদিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে সাইকেল সংস্থার তরফে তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ধূপকাঠির ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখানো হয় ডিজিটাল স্ক্রিনে। তবে হিন্দু পুজোর উৎসবে যেমন ধূপ ব্যবহৃত হয়, তেমনই ধূপ ব্যবহার হয় মুসলিম মসজিদ, দরগা, খৃষ্টান চার্চ, শিখ ও বৌদ্ধ মন্দিরে। বিজ্ঞাপন চিত্রে কিন্তু প্রাধান্য পেল হিন্দুদের মন্দির ও পুজো পার্বণ। প্রশ্ন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কি সাইকেল পিওর আগরবাতির ক্রেতা নন?

Vনির্ধারিত সময়ের প্রায় একঘন্টা বাদে সৌরভ গাঙ্গুলি পৌঁছলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংস্থার পক্ষে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্জুন রঙ্গা বলেন, মহীশূরের এন আর গ্রুপ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এন রঙ্গা রাও। আজ প্রায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ২০ হাজার কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় কুটির শিল্প থেকে এক বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে এন আর গ্রুপ। ভারত ও ভারতের বাইরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে সাইকেল আগরবাতি থেকে সুগন্ধি। এমনকি হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ থেকে এরোস্পেস যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থা হয়ে উঠেছে এন আর গ্রুপ।ব্যবসার পাশাপাশি রঙ্গা পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণে রেখে গড়ে তুলেছে, দাতব্য সংগঠন এন আর ফাউণ্ডেশন।

সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্জুন রঙ্গা জানান, সৌরভ গাঙ্গুলির পরামর্শেই আমরা রেজিন ও উদ্বায়ী তেল দিয়ে তৈরি করেছি ধুনো। দেশের প্রথম ব্র্যান্ডেড ধুনো। আমরা ধূপের সুগন্ধির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করি প্রাকৃতিক ফুলের নির্যাস। নতুন ব্র্যান্ড পুষ্করিনী ধূপকাঠিতেও আমরা মহীশূরের চামুন্ডেশ্বরী মন্দির, নানজুন্ডেশ্বরস্বামী মন্দির ও লক্ষ্মী ভেঙ্গটরামনস্বামী মন্দির থেকে সংগৃহীত ফুল থেকে নির্যাস ও ভেজষ দিয়ে তৈরি করি আমাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ধূপকাঠি। আমাদের ব্র্যান্ডেড প্রতিটি ধূপকাঠি জিরো কার্বনহীন শংসাপত্রের অধিকারী। ফলে পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃত। স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর নয়।

নতুন ব্র্যান্ডের উদ্বোধন করে সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, আমার মায়ের নির্দেশে বাড়িতে মাসকাবারি

নানা জিনিসপত্রের সঙ্গে বেশ ভালো পরিমাণে ধূপ কাঠি লাগে। ধুনো লাগে। বাংলার ঘরে ঘরে পুজোয় ধুনো বাংলার সংস্কৃতির অঙ্গ। তাই এই সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম ভালো মানের ধুনো প্যাকেটবন্দী করতে। আশাকরি বাঙালি এখন ভালো মানের ব্র্যান্ডেড ধুনো বাজারে পাবেন। সৌরভ গাঙ্গুলি সাংবাদিকের মুখোমুখি হবেন, সেখানে খেলার কথা হবে না তা হয় না। তিনি বিভিন্ন খেলা প্রসঙ্গেও উত্তর দেন। সৌরভ জানান, সাইকেল ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর হিসেবে একটা কথা জানাতে পারি, সংস্থার কর্তা অর্জুন রঙ্গা ক্রিকেটেরও ভক্ত। দেশজুড়ে তিনি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে ঘোরেন। আজ কলকাতায় তাঁর নতুন ব্র্যান্ড যেমন উদ্বোধন করলেন, বিকেলে যাবেন ইডেনে আই পি এল দেখতে। মহারাজের মঞ্চে আগমনের আগে ধুনুচি নিয়ে তিন কন্যা নৃত্য পরিবেশন করলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে। মঞ্চের পাশে বাংলার ঐতিহ্যের ঢাক বোল তোলে, আসছে পুজো, আসছে পুজো।

ছবি – রাজেন বিশ্বাস।

About Post Author

Total Page Visits: 156 - Today Page Visits: 1