November 29, 2022

নন্দনে এন জি ও সংস্থা হেল্প এজ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে পালিত হলো আন্তর্জাতিক প্রবীন নির্যাতন সচেতনা দিবস

শ্রীজিৎ চট্টরাজ – কলকাতা

২০০৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন সচেতনা দিবস পালিত হচ্ছে। বুধবার কলকাতার নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে বিশিষ্ট সমাজসেবী সংস্থা হেল্প এজ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে এই উপলক্ষে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, রাজ্যের বিভাগীয় মন্ত্রী ডা : শশী পাঁজা প্রমুখ।

১৯৭৮ থেকে হেল্প এজ ইন্ডিয়া প্রবীণ অসহায় মানুষদের সাহায্য ও তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। আন্তর্জাতিক সংগঠন হেল্প এজ ইন্টারন্যাশানাল এর ভারতীয় শাখা হেল্প এজ ইন্ডিয়া। ২০০২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম প্রবীণ নির্যাতনের দৈনন্দিন বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতিসংঘের কাছে অনুরোধের ভিত্তিতে ২০১১ সাল থেকে ১৫ জুন বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক নির্যাতন সচেতনতা দিবস পালনের ঘোষণা করে। ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড ও হেল্প ইজ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে , ভারতে ২০১১ সালে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৯কোটি। ২০২৬ সালে তা ১৭ কোটি ৩০ লক্ষে পৌঁছবে। ৯ কোটি প্রবীণের মধ্যে ৩ কোটি মানুষ একা থাকেন ৯০ শতাংশ প্রবীণ নাগরিক পেটের তাগিদে কাজ করেন।

এই অবস্থায় প্রবীণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত নিজের সংসারে। সেখানে আজ তাঁরা ব্রাত্য। শুধু খারাপ ব্যবহার নয়,খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসাতেও তাঁরা অবহেলিত। মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি দৈহিক নির্যাতনেরও শিকার হন তাঁরা।বুধবার নন্দনে আয়োজিত একটি সেমিনারে ব্রিজ দ্য গ্যাপ আন্ডারস্ট্যান্ডিং এল্ডার নীডস রিপোর্টটি প্রকাশ করেন নারী ও শিশু ও সামাজিক কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা: শশি পাঁজা। রিপোর্টে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রবীণ বয়সে রোজগার ও কাজ, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা, মানসিক ও শারীরিক ভাবে

নির্যাতনের তথ্য যা দেশের ২২টি শহরে সমীক্ষা করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । আশ্চর্যজনক যে তথ্যটি উঠে এসেছে, তা হলো, প্রবীণদের ৪৭ শতাংশ আর্থিক নির্ভর পরিবারের ওপরে ও ৩৪ শতাংশ পেনশন ও নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল।কলকাতার ক্ষেত্রে যা ৪৯ ও ১৮ শতাংশ। এমন অনেক তথ্য সংগ্রহে রেখে কাজ করে হেল্প এজ ইন্ডিয়া। এটাই জানালেন সংগঠনের সি ই ও রোহিত প্রসাদ।

হেল্প এজ ইন্ডিয়ার অন্যতম পরিচালক ও আইনি উপদেষ্টা অনুরাধা সেন বলেন, প্রবীণদের সুরক্ষায় একটি সময়োপযোগী আইন থাকলেও অনেকগুলি বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকে গেছে। আশা করা যায়, আগামী দিনে এই সমস্যার সমাধান হবে । বিভিন্ন ব্যাংকের তরফে ছিলেন আধিকারিকেরা। তাঁরা প্রবীণদের সাহায্যে ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলেন। এমনকি ব্যাংকিং পরিষেবায় সাইবার ক্রাইম সম্পর্কেও কিছু টিপস দিলেন ব্যাংক আধিকারিক।

সবশেষে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার,পৌরসভা ও বিভিন্ন এন জি ও ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতায় প্রবীণদের সমস্যা সমাধানে বছরভর কাজ করি । প্রবীণদের ক্ষেত্রে গৃহে নিজের পরিজনের হাতে নিগৃহীত হলে স্থানীয় থানা থেকে ফর্ম ফিলাপ করে বা সাদা কাগজে লিখে অভিযোগ জানানোর কথা প্রচার করা হচ্ছে । অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে ৫০০০ হাজার টাকা জরিমানা, ২ বছরের কারাবাস বা দুই সাজা একত্রে হতে পারে সেকথাও জানানো হচ্ছে কলকাতার চার প্রান্ত থেকে ভ্রাম্যমান ট্রাম থেকে।

শহরের ১৫ টি ট্রাফিক সিগন্যালের মাইকে তথ্যগুলি যেমন প্রচারিত হচ্ছে, তেমন জনসচেতনা প্রচারের ক্ষেত্রে এও জানানো হচ্ছে, প্রবীণদের দেখভালের দায়িত্ব শুধু রক্তের সম্পর্কের সন্তানের নয়, রক্তের সম্পর্কের বাইরেও যদি কাউকে কোনও প্রবীণ তাঁর সম্পত্তির অধিকার দিয়ে যান, তিনিও বাধ্য থাকবেন প্রবীণদের দায়িত্ব গ্রহণের। শশী পাঁজা ব্যাংক আধিকারিকদের একটি গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে নজর দিতে বলেন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রবীণ ব্যক্তি ছেলে বা মেয়ে কিম্বা কোনো নিকটজনের সঙ্গে যৌথ ব্যাংক একাউন্ট রাখেন। সেখানে দুজনের সই দরকার হয়। সেক্ষেত্রে অন্যজন সই না করায় প্রবীণ ব্যক্তি অর্থ কষ্টে পড়েন। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের কিছু করার থাকে না। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংক কিভাবে প্রবীণদের স্বার্থরক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে সে ব্যাপারে ভেবে দেখতে অনুরোধ করেন।

About Post Author

Total Page Visits: 230 - Today Page Visits: 1