September 26, 2022

পুনর্মিলনে প্রাণের মিলন

নিজস্ব প্রতিনিধি –

হাত বাড়ালেই বন্ধু পাওয়া যায় কি? অবশ্যই যায়। যদি ইচ্ছে থাকে। অন্ততঃ মোবাইল, ফেসবুক কিংবা মেটা, কুউউ ইত্যাদির যুগে। অতএব বহু বছর আগে যাঁদের সঙ্গে ঘামের গন্ধ বিনিময়, না বলা প্রেম, খুনসুটির ইতিহাসে সমৃদ্ধ সম্পর্ক, তাঁদের একে একে খুঁজে পাওয়া গেল। আর তারপরেই এক বিস্ময়কর, অত্যাশ্চর্য প্রত্যাবর্তন। প্রত্যেকেরই।

১৯৮৬ এর পর ২০২১ অর্থাৎ ৩৫ বছর পর চালসা গয়ানাথ বিদ্যাপীঠের ১৯৮৬ এর মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ পুনর্মিলন উৎসবের আয়োজন করলো চালসা শহরে। কলকাতা থেকে সপরিবারে ছুটে গেলেন রঞ্জনা, সবিতা, সমীর, প্রীতম। শিলিগুড়ি থেকে অপর্ণা, গোলাপ। জলপাইগুড়ি থেকে শান্তনু। ময়নাগুড়ি থেকে সুজাতা। মালবাজার থেকে সুকান্ত। জয়গাঁ থেকে শুভেন্দু। ধুপঝোড়া থেকে ইসমাইল। বাতাবাড়ি থেকে সমিত। লাটাগুড়ি থেকে রুমিতা। আর চালসায় অপেক্ষারত সঞ্জয়, সুব্রত, দীপা, শাশ্বতী, কাজল।

২০২১ এর বর্ষশেষে ডিসেম্বরে দুদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রথমেই সকলে স্মরণ করলেন এই স্কুলের প্রয়াত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং সহপাঠীদের। ছাত্রীরা সমবেতভাবে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করলেন। এরপর সসম্মানে মঞ্চে বসিয়ে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মহোদয়গণকে স্মারক ও নানান উপহারসহ শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করেন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন রথীন স্যার, সনৎ স্যার এবং নিশীথ স্যার। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক শ্রী শক্তিপদ বিশ্বাস এবং দীপ্তি দি, তনুশ্রী দি, বীথিকা দির সঙ্গে তাঁদের স্বগৃহে সাক্ষাৎ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। আবেগাপ্লুত শিক্ষক শিক্ষিকাগণ প্রাণভরে আশীর্বাদ করলেন। জানালেন, জীবনে প্রথম তাঁরা এমন শ্রদ্ধার্ঘ্য পেলেন। মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন সঞ্জয়, সুব্রতর সুপরিকল্পিত আয়োজনের, সমীরের কবিতার আর প্রীতমের সঞ্চালনার।

দ্বিতীয় দিনে দলবেঁধে প্রাক্তনিরা সবাই গেলেন তাঁদের প্রিয় স্কুলে। বসলেন ক্লাসরুমে। ছুটলেন, খেললেন, গড়াগড়ি খেলেন মাঠে। সহপাঠী প্রয়াত পার্থর স্মৃতিসৌধের ফলকটি নতুন করে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সাক্ষাৎ করলেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রাউত এর সাথে। আবেগঘন এই আনন্দযজ্ঞে সামিল হলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও – রুমকি, রত্না, সীমা, জলি, মালবি, ফরিদা, পিঙ্কি, সোনা, সাধন, রঞ্জিত। দুদিন ঘুরে বেড়ালেন খুনিয়া মোড়, চাপরামারি জঙ্গল, কুমানি চেক পোস্ট, মূর্তি নদী, চালসা ভিউ পয়েন্ট, বড়দিঘি চা বাগান, ছাওয়াফুলি।

সন্ধ্যায় সমবেত সঙ্গীতের পর অভিনব আয়োজনে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর হাতে স্মারক তুলে দিলো তাঁদেরই পরবর্তী প্রজন্ম – তাঁদের ছেলেমেয়েরা – স্নিগ্ধা, শারন্যা, প্রাজক, স্বর্ণেন্দু, বিবস্বান, অগ্নিভ, আয়ুষ, ঈশাণ, অর্পিত, সুহানা, জরিণ, এনাশ্রী, স্বর্ণেন্দু, বিশ্বজিৎ, রিপা। ১৯৮৬ এর একটি দলবদ্ধ ছবিকে বাঁধিয়ে সবার হাতে তুলে দিলেন রঞ্জনা। ২০২২ এর একটি সুন্দর ডাইরি উপহার দিলেন শাশ্বতী। আর সুগন্ধি উপহার দিলেন রুমিতা। রথীন স্যার তাঁর সুন্দর হস্তাক্ষরে পাঠালেন আশিস ও শুভেচ্ছাবার্তা। আবেগভরে পাঠ করলেন সমীর। তিনজন স্যার পাঠালেন কিছু উপহার। সঙ্গীতে মাতালেন সুব্রত, সাধন, রুমিতা, অরিনা, অভিমন্যু, স্যাক্সোফোনে শিবব্রত, নৃত্যে স্নিগ্ধা, শারন্যা।

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি ছোট থেকে এখন অনেক বড় হয়েছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও অনেক। জানা গেল, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই সুদীর্ঘ সময়ে এই প্রথম কোনো ব্যাচ পুনর্মিলন উৎসবের আয়োজন করলো। এবার থেকে প্রত্যেক বছরই এমন আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বলে জানালেন ছিয়াশির ছাত্রছাত্রীরা । পরস্পরের চোখের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে চান ভালোবাসার শৈশব, বন্ধুত্ব – আজীবন ।

About Post Author

Total Page Visits: 145 - Today Page Visits: 1