August 11, 2022

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবি “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর” রহমানের জীবনী নিয়ে মুজিব-দ্য মেকিং অফ এ নেশন-এর পোস্টার প্রকাশিত হল

নিজস্ব প্রতিনিধি –

নামী চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগল বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত ছবি মুজিব-দ্য মেকিং অফ এ নেশন-এর পোস্টার প্রকাশ করেছেন। ‘বঙ্গবন্ধু’ নিয়ে এই ছবি তৈরি হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অডিও-ভিস্যুয়াল যৌথ প্রযোজনা চুক্তির মাধ্যমে। শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ ১৭ই মার্চ ২০২২ মুম্বাইতে ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এনএফডিসি-তে পোস্টার প্রকাশ করলেন কিংবদন্তী পরিচালক।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ভারত এবং বাংলাদেশ শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী চিত্রের ঘোষণা করেছিল। মুজিব শতবার্ষিকী উদযাপনের শেষ লগ্নে চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে ছবির পোস্টার প্রকাশিত হচ্ছে।

ছবি সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী শ্যাম বেনেগাল বলেন যে, পর্দায় শেখ মুজিবুর রহমানের মহান জীবন তুলে ধরা কঠিন কাজ ছিল। ‘মুজিব-দ্য মেকিং অফ এ নেশন আমার কাছে একটি হৃদয়স্পর্শী চলচ্চিত্র। বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ জীবন রিলে ধরে রাখা একটি কঠিন কাজ ; আমরা তাঁর চরিত্রটি তুলে ধরতে কোনো সমঝোতা করিনি। মুজিব ভারতের মহান বন্ধু ছিলেন। আমাদের আশা পোস্টারটি দর্শকদের ছুঁয়ে যাবে।’ ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের যৌথ প্রযোজনা নিয়ে বলতে গিয়ে শ্রী বেনেগাল বলেন, ‘আমি এই কাহিনীচিত্রটি নিয়ে কাজ করতে পেরে খুশি। এনএফডিসি-র সূচনা থেকে তাদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে ফলপ্রসূ সম্পর্ক হয়েছে এবং বিএফডিসি-র সঙ্গে কাজ করে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হল।’

এনএফডিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী রবীন্দর ভাকার জানান যে, ‘এনএফডিসি কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকারদের নিয়ে ছবি তৈরি করেছে যাঁরা সারা বিশ্বে এখন বিখ্যাত। এই প্রকল্প নিয়ে শ্যাম বেনেগালজির সঙ্গে আরও একবার কাজ করতে পারা কর্পোরেশনের পক্ষে অত্যন্ত আনন্দদায়ক ঘটনা। মুজিব- দ্য মেকিং অফ এ নেশন এনএফডিসি-র ইতিহাসে একটি পথপ্রদর্শক ছবি হিসেবে পরিগণিত হবে। নিশ্চিতভাবে এই দৃষ্টান্তমূলক চলচ্চিত্রের জন্য এনএফডিসি-র সঙ্গে কাজ করা আনন্দদায়ক।’

এনএফডিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রীমতী নুজহাত ইয়াসমিন জানান ‘ ছবিটি দিনের আলো দেখতে পাওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। মুজিব- দ্য মেকিং অফ এ নেশন আমাদের কাছে একটি ভাবাবেগপূর্ণ বিষয়। এএফডিসি-র পক্ষ থেকে আমি বিএফডিসি-কে আমার অভিনন্দন জানাতে চাই যাঁরা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আগ্রহের সঙ্গে শ্যাম বেনেগল-জির ছবি দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি একজন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা, আমাদের সকলের কাছেই অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়’।

শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাভিনেতা আরিফিন সুভি বলেন, ‘মুজিবের ভূমিকায় অভিনয় করা খুবই চমকপ্রদ ব্যাপার। এটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো ঘটনা। আমি এই দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। শ্যাম বেনেগল জির মতো কিংবদন্তীর কাছে কাজ করতে পেরে সম্মানিত। এই কাহিনীচিত্র আমার এবং আমার দেশের কাছে কতটা তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। ভারতে এই ছবি তৈরি হওয়ার সময় আমি উষ্ণতা এবং মহান আতিথেয়তা অনুভব করেছি। আমি আশাবাদী যে আমি চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছি এবং দর্শক আমাকে গ্রহণ করবেন, ছবিটিকে ভালোবাসবেন যেমনভাবে তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন।’

চলচ্চিত্রটির শ্যুটিং হয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশে কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ছবি তৈরির কাজ শেষ হয় ২০২১এর ডিসেম্বরে।

শেখ মুজিবুর রহমান- বাংলাদেশের জাতির পিতা

মুজিব ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মুজিবের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর দেখা হয়েছিল। মানুষের ক্ষমতায়ণের জন্য তিনিই ছিলেন মুজিবের অনুপ্রেরণার উৎস। এই অনুপ্রেরণা সারা জীবন বজায় ছিল। এছাড়াও এই জীবনীচিত্র মুজিবের জীবনের উদযাপন ; এটি নিয়ে যায় আমাদের ইতিহাসের পথে যা জীবন্ত হয়ে ওঠে দর্শকদের দ্বারা। এই চলচ্চিত্র সেই মহান নেতার সাফল্যকে জীবন্ত করে তুলেছে।

মুজিব জন্মেছিলেন একটি অভিজাত মুসলিম পরিবারে। বড় হয়েছিলেন ধর্মীয় এবং সম্প্রীতির আবহে। তিনি গরিবের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তাদের জন্য তাঁর সমবেদনা ছিল। তিনি হুসেন সুরাবর্দীকে শ্রদ্ধা করতেন। পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১এর মধ্যে তিনি প্রায় ১১ বছর কারাবন্দী ছিলেন। তিনি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ গঠনে সফল হন। সেইজন্যই তাঁকে বাংলাদেশের জাতির পিতা বলা হয় বঙ্গবন্ধু হিসেবে। তিনি একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। তাঁর ভাষণ এবং সাহস বাংলাদেশের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।

মুজিব- দ্য মেকিং অফ নেশন ছবির কলাকুশলীরা

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রাভিনেতা এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আরিফিন সুভি শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। অন্যান্য শিল্পীদের মধ্যে আছেন নুসরত ইমরোজ তিশা, ফজলুর রহমান বাবু, চঞ্চল চৌধুরী এবং নুসরত হারিয়া। ছবির কাহিনীটি রচনা করেছেন শ্রী অতুল তিওয়ারী এবং শ্রীমতী শ্যামা জায়দি।

ডিরেক্টর অফ ফোটোগ্রাফি শ্রী আকাশদীপ, সম্পাদনা শ্রী অসীম সিনহা, সঙ্গীত শ্রী শান্তনু মৈত্র, শিল্প নির্দেশক শ্রী বিষ্ণু নিশাদ, অ্যাকশন পরিচালক শ্রী শ্যাম কৌশল, কোরিওগ্রাফার শ্রী মাশুম বাবুল, সাজসজ্জা শ্রীমতী পিয়া বেনেগল, সহযোগী পরিচালক শ্রী দয়াল নিহালনি, প্রোডাকশন ডিজাইনার শ্রী নীতীশ রায়, কাস্টিং শ্রী শ্যাম রাওয়াত এবং বাহারুদ্দিন খেলন, লাইন প্রডিউসার শ্রী সতীশ শর্মা।

ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএফডিসি-র সম্পর্কে)

১৯৭৫এ ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন গঠন করে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে ভালো সিনেমা আন্দোলনের প্রসার ঘটানো। বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সারা দেশে স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণে, পরিবেশনায় এবং আর্থিক সহায়তায় এক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল এনএফডিসি।

বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএফডিসি সম্পর্কে)

১৯৫৯এ সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ইস্ট পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামে। ১৯৭১এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটির নাম পরিবর্তন হয়ে হয় বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। প্রতি বছর তেশরা এপ্রিল বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে এই দিনটি আয়োজন করে এবং পালন করে কর্পোরেশন। শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী থাকাকালীন এই দিনেই ইস্ট পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নির্মাণ সংক্রান্ত বিলটি পেশ করেন।

About Post Author

Total Page Visits: 163 - Today Page Visits: 2