June 29, 2022

লেকটাউনের রীনাস ক্রিয়েশন বেনারসী ঘরানার পীঠস্থান

শ্রীজিৎ চট্টরাজ – কলকাতা

মক্কা থেকে মদীনায় গেলেন হযরত মোহাম্মদ। আশ্রয় নিলেন আনসারী সম্প্রদায়ের ঘরে। আনসারী বাংলায় যাঁরা তাঁতী সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস বলছে, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ভারতে আসেন এই কুশলী তাঁতীদের একাংশ। বসতি গড়ে তোলেন বেনারস ও বেনারস সংলগ্ন অঞ্চলে। এঁদের হাতেই নির্মাণ দেশের ঐতিহ্যশালী বেনারসী শাড়ি। বেনারস শহরের বহু নিম্ন বর্ণের হিন্দু পরবর্তীকালে সামাজিক শিল্পী স্বীকৃতিতে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন।

আমাদের দেশে শাড়ির প্রচলন কিন্তু সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরানো। মূলত অনার্য আদিবাসী অসুর সম্প্রদায়ের সৃষ্টি বলা হতো শাটি। শাটি থেকে শাড়ি। মেয়েদের ঊর্ধ্বাঙ্গ ছিল অনাবরণ। ঠাকুর পরিবারের জ্ঞানদানন্দিনীদেবী মহারাষ্ট্রে স্বামীর পেশাগত কারণে থাকাকালীন পার্শি মহিলাদের শাড়ি পড়ার কৌশল শিখে বাংলায় প্রবর্তন করেন।

বেনারসির ইতিহাস ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসি। বাঙালির বিয়েতে বেনারসী শাড়ি আবশ্যিক বস্তু। ইদানিং বাঙালি শাড়ি ছেড়ে লেহেঙ্গাতে মজেছেন। কিন্তু কাপড়টা অবশ্যই বেনারসী।কোলকাতায় নামী দামী বেনারসী শাড়ি বা লেহেঙ্গার দোকানের অভাব নেই, কিন্তু জরা হটকে অর্থাৎ একমেব অদ্বিতীয়ম পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। অন্যের চেয়ে নিজের স্বতন্ত্রতা প্রকাশ করার ইচ্ছেকে প্রশ্রয় দিতে বাজারি দোকানে বাজার করা এখন অতীত। সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ সবাই ভিড় জমাচ্ছেন ব্যুটিকের দোকানে।

লেকটাউনের যশোর রোডের কাছে রীনাস ক্রিয়েশন এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ফেবারিট হয়ে উঠছে। কারণ একটাই। পকেট বন্ধু দাম আর ডিজাইনের দুনিয়ায় মাত্র একটি ডিজাইন যা আপনার একান্ত নিজস্ব। দ্বিতীয়টি আর মিলবে না। শুক্রবার বিকেলে রীনাস ক্রিয়েশনের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আসন্ন রথযাত্রা আর পুজোর উৎসবকে মনে রেখে বেশ কিছু বেনারসী ঘরানার ওয়েস্টার্ন কালেকশন প্রকাশ করা হলো। চিরাচরিত অথচ পোশাকের ফ্যাশন প্যারেড নিবেদন করলেন বিপনীর কর্ত্রী অরুন্ধতী। বেনারসী শাড়ির নকশার সঙ্গে মানানসই ছেলেদের বেনারসী পাঞ্জাবি আর ধুতির নকশার মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে যা এক নতুন উদ্ভাবন ।বেনারসির সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়, জমকালো নকশার বদলে হালকা নকশা প্রয়োগ করে দামের ক্ষেত্রে সহজ উপলব্ধ করা হয়েছে। শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে একটি বেনারসী বটুয়া ও বেনারসী মাস্ক দেওয়া হচ্ছে।

ক্রেতারা চাইলে তাঁদের বাজেটের মধ্যে তত্ত্বের ব্যবস্থাও করা হয়। যাঁরা বেনারসী শাড়ি লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি ধুতি বা বেনারসী ওয়েস্টার্ন ড্রেস নিয়ে পাইকারি ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। আমাদের নিজস্ব বেনারসী কারখানায় কাজ করেন প্রায় ৫০জন কারিগর।মূল ব্যবসায় জড়িত প্রায় ৪৫০জন কর্মী। করোনা পরিস্থিতির পর নতুন করে ব্যবসায় বেনারসী কাপড়ে ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সম্ভার নিয়ে এলাম। এমনই জানালেন বিপনির কর্ত্রী অরুন্ধতী। পাঁচ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মডেলদের পদচারণা। পোষাক ও সহযোগী অলঙ্কারের মেল বন্ধনে বেনারসী ঘরানা এক নতুন আঙ্গিকের সূচনার ইঙ্গিত দিল।

Total Page Visits: 258 - Today Page Visits: 2