August 14, 2022

শিল্পীর মৃত্যু হয়না শারীরিক ভাবে না থাকলেও তাঁর গান আপামর বাঙালির মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে রয়ে যাবে

সঙ্গীতশিল্পী শুভজিৎ –

ছোট বেলায় বাড়ির টেপ রেকর্ডার, টেলিভিশনে তাঁর গান শুনতাম, তাঁর গাওয়া এই বাংলার মাটিতে, এমন একটি ঝিনুক খুঁজে পেলাম না, ও তোতা পাখি রে-র মতো অজস্র কালজয়ী গান যা শুনেই আমার বড়ো হয়ে ওঠা। বাংলা গানের প্রতি ভালোবাসা যদি কেউ তৈরি করে থাকেন তিনি নির্মলা মিশ্র, তবে তাঁর সান্নিধ্য পাওয়াটা আমার কাছে স্বপ্নের মতোই ছিল। সালটা ২০১৩, একটি অনুষ্ঠানের শেষে তাঁর সাথে প্রথম দেখা, তবে সেদিন তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করার সুযোগটাই আমার কাছে অনেকটা পাওয়া ছিল। পরবর্তীতে তাঁর অসুস্থতার খবর আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল, ছুটে গিয়েছিলাম তাঁর কাছে।

এটুকু বলতে পারি সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তো বটেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পীদের একজন তবে তার চেয়েও অনেক অনেক বড়ো মনের মানুষ, আমি সত্যিই এমন মানুষ আর একটিও দেখিনি। আমি একবার বিজয়ার পর মিষ্টি নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম, পরদিন ফোনে বলেছিলেন ওটা আমার প্রিয় মিষ্টি, আজ থেকে তোমার নাম কালাকাঁদ, তারপর থেকে অসুস্থতার মাঝেও ঐ নামেই ডাকতেন। এতো

বড় মাপের মানুষ হয়েও অত্যন্ত সরল ও শিশু সুলভ প্রকৃতির ছিলেন, চকোলেট বড় ভালোবাসতেন, দেখা করে ফেরার সময় পরে আবার আসবো কথা দিয়ে আসতে হতো, অসম্ভব ভালোবাসা, স্নেহ পেয়েছি তাঁর কাছ থেকে। মাঝে মাঝে অবাক হতাম এতকিছুর পরও সামান্য অহংকার বোধ তাকে ছুঁতে পারেনি; বলা ভালো তিনিই ছুঁতে দেননি, তাইতো তিনি সকলের বড়ো আদরের।

অসুস্থতা সত্ত্বেও আমায় উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন, গান নিয়ে, আমার না দেখা শিল্পীদের নিয়ে কত অজানা সব কথা,‌ কত কত গল্প, মজা‌ করতেন, তিনি বললে গান শোনাতেই হতো। খুব ভুগছিলেন দিদাই তবু অসম্ভব মনের জোর নিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, বারবার বলতেন আমি কি আর কোনদিন গাইতে পারবো!! বোঝাতাম, পরে নিজেই আবার বলতেন জানিনা!! কত কত স্মৃতি বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তাঁর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার কাছে চিরকাল স্মরনীয় হয়ে থাকবে। দিদাই আমার অনেকখানি জুড়ে ছিলেন, তাঁর চলে যাওয়া আমার কাছে ব্যাক্তিগত ক্ষতি,

আমার নিজের দিদাকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি তবে নির্মলা দিদাই কেই দিদাই বলে জেনেছি, আর আজীবন তাইই জানবো। এটুকু বলতে পারি সঙ্গীত জগৎ অনেক শিল্পী হয়তো পাবে কিন্তু নির্মলা মিশ্র একজনই, যিনি তুলনাহীন, আমার শ্রদ্ধার, ভালোবাসার অত্যন্ত প্রিয় দিদাই। আমি সৌভাগ্যবান তাঁর সাথে আমার দেখা হওয়ার, কিছুটা হলেও সময় কাটানোর, আশীর্বাদ পাওয়ার, দুঃসাহস হলেও কাজ দেখানোর থেকে তাঁকে সম্মাননা জানানোর সৌভাগ্য হয়েছে। শিল্পীর মৃত্যু হয়না, শারীরিক ভাবে না থাকলেও তাঁর গান আপামর বাঙালির মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে রয়ে যাবে, দিদাই ছিলেন, আছেন আর থাকবেন তাঁর কন্ঠ, তাঁর গায়কী, তাঁর সব কালজয়ী গানের মধ্যে দিয়ে। সুরলোকে ভালো থেকো দিদাই, তোমার কালাকাঁদ তোমার অভাব চিরকাল অনুভব করবে, ওম শান্তি।।

About Post Author

Total Page Visits: 103 - Today Page Visits: 1