August 14, 2022

সুহৃদ সংঘের উদ্যোগে আর্থিক দুর্বল পরিবারের কন্যার বিয়ের আয়োজন করল

শ্রীজিৎ চট্টরাজ –

মধ্য কলকাতার একটি প্রাচীন পথ ক্রিক রো। ইতিহাস বলছে, কলকাতার ভাগীরথী তীর সংলগ্ন চাঁদপাল ঘাট থেকে একটি খাল অধুনা হেস্টিংস স্ট্রিট পেরিয়ে ক্রিক রো পেরিয়ে আজকের সলটলেক ধরে বিদ্যধরী নদীতে পড়েছিল। সেখান থেকে অধুনা ঢাকা বন্দরে হতো জলপথে বাণিজ্য।

১৭৩৭এ বাঁধভাঙ্গা বন্যায় কলকাতায় যেমন বহু প্রাণ গেছে,তেমন অসংখ্য বাণিজ্য ডিঙ্গি ধ্বংস হয়। তখন সেই খালের নাম হয় ডিঙ্গাভাঙ্গা খাল। পরে খাল বুজিয়ে রাস্তা হলে নাম হয় ডিঙ্গাভাঙ্গা লেন। ইংরেজ নাম দেয় ক্রিক রো। ক্রিক শব্দের অর্থ খাল।

সুহৃদ সংঘের তরফে সুদীপ দত্ত, শুভেন্দু কুন্ডু, মদন মোহন কুন্ডু প্রমুখেরা জানান, ইতিমধ্যেই তাঁরা বারুই পুর ও লক্ষীপুরের প্রান্তিক অঞ্চলের দুই আর্থিক দুর্বল পরিবারের মেয়ের বিয়েতে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। আমফানে বন্যা পীড়িতদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনা প্রবাহে এলাকারপ্রায় তিন হাজার অসহায় মানুষদের দুবেলা খাদ্যের সংস্থান করেছেন । গত মার্চ মাসে পুরুলিয়ার প্রান্তিক অঞ্চলে ক্যাম্প করে সাহায্য করেছেন।

এরপর বয়স বেড়েছে বয়সের। এখানেই বিদ্যাসাগর গড়েন মেট্রোপলিটন স্কুল। একশো মিটারের মধ্যে থাকতেন ডা: মহেন্দ্র নাথ সরকার। যিনি ছিলেন ১৯ শতাব্দীর কলকাতার সেরা চিকিৎসক। রামকৃষ্ণদেবের চিকিৎসকও ছিলেন তিনি। অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা ছেড়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন তিনি। তাঁর বসতবাড়ি সংলগ্ন জমি তিনি দান করেন পাড়ায় একটি ক্লাব ও ব্যায়ামাগার গড়ে তোলার জন্য। সময়টা ১৯১৫। এর দু বছর পর রাজাবাজারে বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র গড়েন বসু বিজ্ঞান মন্দির।

এস ওয়াজেদ আলীর শব্দবন্ধ ধার করে বলা যায়, সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। আজও সেই সুহৃদ সঙ্ঘ নিছক ক্লাব কালচারে আবদ্ধ নেই। সাংস্কৃতিক সংঘবদ্ধতার দায় মিটিয়েও বছরভর সংঘের সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন জনহিত

কর্মযজ্ঞের সঙ্গে। সোমবার সন্ধ্যায় সঙ্ঘ প্রাঙ্গণে বেজে ওঠে বিয়ের সানাই। পূর্ব কলকাতার ধাপা অঞ্চলের এক আর্থিক দুর্বল পরিবারের মাতৃহারা কন্যার বৃদ্ধ পিতার সামর্থ ছিল না মেয়ে জয়তী হাজরার বিয়ে দেওয়ার। পাত্র আয়ুর্বেদ চিকিৎসক দীপঙ্কর বৈদ্য জয়তীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও কন্যার পিতার অন্তরায় হয় আর্থিক সঙ্গতি। এগিয়ে আসে সুহৃদ সঙ্ঘ। সংঘের সদস্যদের সাধ্যমত আর্থিক অনুদানে চার হাতের মিলন হলো ধর্মীয় প্রথা মেনে। ছিল রোশনাই। ছিল বিবাহ বাসরের প্রাঙ্গন সজ্জা। ছিল স্ন্যাক্স কফি দিয়ে আপ্যায়ন। শেষে ভুরিভোজ। কন্যা পক্ষ ও পাত্র পক্ষের সঙ্গে

মেতে ওঠেন এলাকার নারী পুরুষ। যেন নিজেদের পরিবারের উৎসব। সুহৃদ সংঘের প্রাঙ্গণে গান, নাচ, ছবি আঁকা ও ক্যারাটে শেখার ব্যবস্থা আছে বিনামূল্যে। সঙ্ঘ সংলগ্ন রামকৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত মন্দিরে শনি ও রবিবার দাতব্য চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। আগামীদিনে এমন বহু অসহায় অভিভাবকদের কন্যার বিয়ের আয়োজন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন সংঘের আধিকারিকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হনসস্ত্রীক স্থানীয় জনপ্রিয় পুর প্রতিনিধি সজল ঘোষ। সংঘের তরফে জানানো হয়, পুর প্রতিনিধি তাঁদের কথা দিয়েছেন সংঘের জিম আধুনিক করে তোলার ব্যবস্থা তিনি করবেন। সমসাময়িক কালে সুহৃদ সংঘের এই দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে আছে, আছে_ প্রাণ আছে।

About Post Author

Total Page Visits: 111 - Today Page Visits: 1